আজ ছিলো পহেলা বৈশাখ, নববর্ষ ১৪১৪ বছর আগেও যখন চট্রগ্রাম থাকতাম, দিনটি ঘরে বসেই কাটাতাম। কিন্তু এখানে, বিশেষ করে ভার্সিটি এলাকায় নিশ্চুপ হইয়ে বসে থাকার জো নেই। চারিদিকে মানুষের যেন ঢল নেমেছিল আজ।
কাল রাত জাগার দরুন আমি আজ সকালে ঘুম থেকে উঠলাম ১১ টায়! বছরের প্রথম দিনেই অনিয়ম। ছোট থাকতে মা বলতো নববর্ষের দিন যেভাবে চলবি, বছরের প্রতি দিনই কিন্তু এরকম যাবে। এখন এগুলো ভাবলেই বেশ মজা লাগে। এরকম আরো কত কিছু ছিলোপরীক্ষার দিন ডিম না খাওয়া, রাতে নখ না কাটাআগের দিনের মানুষদের আর দোষ দিয়ে লাভ কি? University level – এর অনেক ছাত্রশিক্ষকের মাঝেও আমি কুসংস্কার দেখেছি। যেমন জাফর ইকবাল স্যার উনার একটি বই লিখেছিলেনএক Physics এর প্রফেসর এর কথা, যিনি কিনা হাতে আংটি পরতেন ! ওই যে জোতিষী রা দেয় যে ! আমাদের এক বন্ধু আছে, শাহ্জালাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পরে, তার সংস্কার extreme level- পৌছে গেছে। সংখ্যাটি নাকি তার জন্য অপয়া

=> রুমে তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে সে কখনো ঢুকে না বা বের হয় না
=>
ডাইনিং মাছ বা মাংস পিছ দিলে, আশেপাশের বন্ধুদের দিয়ে কমিয়ে নেয়
=>
মোবাইলে ৩০০ টাকার কার্ড রিচার্জ করা তো দূরের কথা কোনো কারনে যদি ১০৩ টাকা থাকে, সে দ্রুত কল করে কমিয়ে নেয়
=>
সিঁড়ির তৃতীয় স্টেপ সে কখনো পা দেয় না

ও আরো মজার মজার কি কি যেন করে, এই মূহুর্তে মনে পরছে না; তবে যেকোনো টার্ম এ ৩য় পরীক্ষায় নাকি বেচারার চিকন ঘাম ছুটে যায়

নববর্ষ দিয়ে শুরু করে কত দূরে চলে গেলাম।
আজ অনেক হেটেছি। একা না, আমার সাথে ছিল আমার স্কুলের বন্ধু জিতু (স্কুলে ওর ডাক নাম ছিল মুরগী
নামকরণের কারণ – কোনো এক বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগীতায় নাকি সে মুরগীর মত দৌড়েছিল!) । জনস্রোতে হাটছিলাম (মতান্তরে জনতাই আমাদের হাটাচ্ছিলো !) আর ঘুরে ফিরে মনে পরছিল পুরনো কত স্মৃতি …
চারপাশে মানুষের সে কি উল্লাস ! আমরা বাঙ্গালিরা আসলেই দুনিয়ার সবচেয়ে সুখি জাতি
। পাশ করে বের হয়ে যাওয়ার পর যদি দূরে কোথাও চলে যাই, তাহলে আবশ্যই বুয়েট ক্যাম্পাস, চারুকলা, টি.এস.সি. , কলাভবনকে বিশেষ এই দিন গুলোতে খুব মিস/ফিল করব।
আর একটা ব্যাপার না বলে পারছি না – চারিদিকে প্রেমিক-প্রেমিকাদের সুখি সুখি চেহারা। দেখতে বেশ ভাল লাগে। তাদের দেখে যাত্রী’র একটা গান মাথায় ঘুরছিলো

মেলে না, আজ কিছু মেলে না
ভালোবাসা, বাঁচতে চাওয়া ছাড়া।
দুটোই মিলে যায়, বসে একা ভাবি তাই
এই কি বেশি না? এই কি বেশি না?
বলো এই কি বেশি না? আজ এই কি বেশি না?”

গানটার এই জায়গাটা যতবারই শুনি, কেন যেন আমার হাসি পায়। আচ্ছা এখানে কি আজকালকার তথাকথিত কিছু প্রেমকে কটাক্ষ করা হয়েছে?

Advertisements