জগতে আমার সবচেয়ে অপ্রিয় যে দুটি স্থাণ সেগুলো হলো – কাঁচা বাজার এবং সরকারি ব্যাংক । অথচ আজ আমাকে ঝাড়া ৪ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হল সোনালী ব্যাংক, বুয়েট শাখায়। এর মাঝে প্রথম দেড় ঘন্টা আবার বৃষ্টিতে, খোলা আকাশের নিচে। অবশ্য এর জন্য আমি প্রিপারেশন নিয়েই এসেছিলাম – রেইনকোটে আপাদমস্তক মুড়ে । শুধু তাই না, পকেটে ছিল Mp4 Player – অর্ধশত গানসমেত। সময় কাটাতে হবে তো …ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয় সকাল নয়টায় । লাইন বড় হবে জেনে আমি চলে গেলাম সকাল আটটায় । কিন্তু গিয়ে তো চক্ষু চড়কগাছে উঠলো ! এত সকালে, এই বৃষ্টিতেও অতিউৎসাহীর অভাব নেই। অলরেডী তিনটা লাইন হয়ে গেছে। বুয়েটে কেবল নতুন টার্ম শুরু হলেই সবাইকে একবার করে এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। তাই প্রতি ছয় মাসে একবার আমাকে একবার এই অপ্রিয় স্থাণটিতে আসতে হয়।

ঘটনার এখানেই শেষ নয়। কিছু ছাত্রের মূল কার্যক্রম শুরু হয় সকাল ১০টার পর। এই সময় সুযোগ সন্ধানীরা একে একে ব্যাংকে প্রবেশ করতে থাকে। তারা খোঁজে কাতারের সম্মুখভাগে দন্ডায়মান তাদের বন্ধুদের – ” দোস্ত এই নে আমার ভাউচার। আর এই নে টাকা…” কাছের বন্ধুদের কিছু বলাও যায়না। এভাবে দেখা যায় কারো কারো কাছে আট দশটা করে ভাউচার জমা পরে। এত জনের ভাউচার, এতজনের টাকা নিয়ে পরে হেভী গেঞ্জাম লেগে যায়। তাই আজ শুরু থেকেই রেইনকোটের কভার মাথায় ঘোমটার মত দিয়ে একটার পর একটা গান শুনে যাচ্ছিলাম। উদ্দেশ্য – কেউ যেন আমায় প্রথম দর্শনে ঠাহর করতে না পারে। নিজের পেছনে বিশাল লাইন দেখে কেন যেন পৈশাচিক আনন্দ হচ্ছিলো। আশ্চর্য! মানুষের ভোগান্তি দেখে খুশি হওয়ার কী আছে? তবে সবারই মনে হয় এ ব্যাপারে ভালো লাগার অনুভূতি হয়…

এত প্রোটেকশান নিয়েও লাভ হলনা। কী করে যেন এক বন্ধু আমার চেহারা মোবারক দেখে ফেলল,
– আরে রিজভী না? তোরে তো চিনা-ই যাইতাছে না। তো রুমের এই ভ্যাপসা গরমের মধ্যে তুই এই বস্তুটা পইরা আছিস ক্যান্ ?
– না, মানে ইয়ে… একটু আগে বাইরে বৃষ্টির মধ্যে ছিলাম কিনা…
– নে ধর্, আমারটা। আর এইটা হইল আক্কাসের (নামটা চেঞ্জ করে দিলাম)। ভাবছিলাম আরো সকালে আসমু, কিন্তু হালার ঘুম থেইকা উঠতেই পারলাম না। আর এই হইল টাকা। ভাংতি নাই… জমা দিয়া বাকি টাকা ফেরত নিস…

Advertisements