আজ দ্বিতীয় বারের মত বইমেলা থেকে ঘুরে এলাম। কাল একুশে ফেব্রুয়ারী বলে আজ প্রচন্ড ভীড় হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু দুপুরের দিকে টিপটিপ বৃষ্টি মনে হয় অনেকের প্ল্যান ভেস্তে দিয়েছে। হঠাৎ আজ সকালেই আমার কাজিন বাছিরের ফোন রিজভী চল আজ বইমেলায় যাই। পরে তো আর সময় পাবো না। বাছির মেডিক্যালে পড়ে, গত দেড় মাস ধরে ওর প্রফ চলছে। একটা পরীক্ষা দিয়ে ও বড়জোর একদিন ছুটি পায়! তাই আমি বললাম চল। আর মাহদীকেও ফোন কর। আমি তারেককে বলছি।

চট্টগ্রাম কলেজে যখন পড়তাম, তখন আমরা চারজন একসাথেই থাকতাম। এক বেঞ্চে বসতাম, ক্যাম্পাসেও একসাথে ঘোরাঘুরি করতাম। আজ অনেক বছর পর চারজন একসাথে হওয়ার একটা সুযোগ মিললো। তারেক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মাইক্রোবায়োলজিতে, মাহদী একই বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে আর বাছির স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যালে পড়ে। সবাই আমরা ঢাকাতে থাকার পরও বাছির ছাড়া অন্য দুজনের সাথে আমার দেখাই হয়না। সবাই এত ব্যস্ত!

মাহদী আসতে পারলোনা। আসলে ওকে আমাদের আরো আগে বলে রাখা দরকার ছিল। হঠাৎ ফোন পেয়ে সে সময় বের করতে পারেনি।

যাই হোক আমরা তিনজনই বইমেলা প্রাঙ্গনে ঘুরে বেড়ালাম। বৃষ্টির কারণে সর্বত্র কাদা। বারবার হাটার সময় ভয় করছিল এই বুঝি আছাড় খাই। আমি আবার হাটার সময় নিচের দিকে তাকাই না…

এবার আমার পরিচিত দুইজনের বই বেড়িয়েছে। প্রথমটা আমার মামী আমেনা সফিকের হৃদয়ে চন্দ্র দহন। দ্বিতীয়টা ৩৬০ তে আমাদের সবার প্রিয় পল্লব দাদার স্বপ্নপাখি। মামীরটা তো উপহারই পেয়েছি। তাই আজ প্রথম যে বইটা কিনলাম সেটা হল স্বপ্নপাখি। দুটোই কবিতার বই। কবিতা সম্পর্কে আমার জ্ঞান খুবই সীমিত। তাই আর এ বইগুলোর কবিতা নিয়ে কিছু লিখতে পারছিনা। তবে নিজেদের মাঝে কেউ একজন বই বের করেছে, এটা ভেবেই আমি পুলকিত। এমনিতে দাদার লেখার বড় রকমের ফ্যান আমি। বোধ করি ৩৬০র অনেকেই…

প্রাঙ্গনে আহসান হাবীব দাড়িয়েছিলেন, একা! দেখতে একদম হুমায়ূন আহমেদের মত। তারেক বললো উনার অটোগ্রাফ নিবি? আমি বললাম, কিন্তু তার তো কোন বই কিনিনি। শুধু তাঁর প্রকাশিত উম্মাদ পড়ি প্রতিমাসে। তারেক বললো অন্য যেকোন বইয়ে উনি অটোগ্রাফ দেন। আর তার পাশে নিজ থেকেই একটা কার্টুন এঁকে দেন। শুনে আমার উৎসাহ জাগলো। সালাম দিয়ে বাড়িয়ে দিলাম দাদার লেখা বইটার প্রথমের সাদা পে
জটা (দাদা কিছু মনে কোরো না)। আহসান
হাবীব হাসিমুখে আমার নাম জিজ্ঞেস করে, অটোগ্রাফ দিলেন। পাশে খুব দ্রুত একটা কার্টুন এঁকে ফেললেন!

অন্যপ্রকাশের স্টলের সামনে এত ভীড় যে ওটার আশেপাশের স্টলেও যাওয়া যায়না। এই স্টল দেখে গতবারের বইমেলার একটা হাসির ঘটনা মনে পড়লো। ঘটনাটা বাছিরের মেডিক্যালের দুই বন্ধুকে নিয়ে। তারা নাকি এই স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে বই দেখছিলো। তার আগের দিন দেখে গেছে ইমদাদুল হক মিলনের একটা নতুন বই বেড়িয়েছে। সেদিন গিয়ে দেখে একদিনের ব্যবধানে আরেকটা বই চলে এসেছে। এমনিতেই আমাদের বয়সের পাঠকদের মাঝে তাঁর জনপ্রিয়তা নেই বললেই চলে। তখন একজন আরেকজনকে বইটা দেখিয়ে বলছে এই দ্যাখ্ ! মিলন পাগলা তো আরেকটা বই লেইখ্যা ফেলছে! বলার পরপরই তাকিয়ে দেখে ইমদাদুল হক মিলন তাকিয়ে আছে। এই স্টলেই এতক্ষন বসে ছিল!!! ঘটনাটা চাক্ষুস দেখিনি। শুনেই আমার হাসতে হাসতে পেটে খিল ধরে গেছে…

বিঃ দ্রঃ ছবিতে আহসান হাবীবের পাশে তারেক।

Advertisements