(মূল লেখাঃ সচলায়তন)

বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে ব্রাজিলিয়ান এক তরুণীর আশেপাশে বসে ক্লাস করছি আজকাল। না মানে ইয়ে, প্রিয় দলের পাশে থেকে সাপোর্ট করা আর কি…

মজার ব্যাপার ঘটল সেদিন স্ট্যাটিসটিক্স ক্লাসে। প্রথম দিনই প্রফেসর এসে বললেন, ‘এখানে সকার দেখে কে কে?’ আমরা চার-পাঁচ জন কেবল হাত তুললাম ত্রিশজনের মধ্যে। একেবারে সামনে বসেছিলাম সেদিন। বৃদ্ধ প্রফেসর বেশ স্নেহের দৃষ্টিতে তাকালেন আমার দিকে। আমি মনে মনে বলি, কেল্লা ফতে…তোমাকে এই লাইনেই কাবু করতে হবে! সামারের প্রথম ক্লাস, কোর্স প্ল্যান নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। ও মা! বিশাল প্রজেক্টরে সে খুলে বসল বিশ্বকাপের ফিক্সচার! ঘটনা হল তার নিজের দেশ চিলির খেলাগুলো পড়েছে আমাদের ক্লাস টাইমে। তাহলে উপায়? উপায় আবার কী; সাফ জানিয়ে দিল ঐ ক্লাসগুলো হবেনা। ক্লাস-পরীক্ষা তো প্রতি সেমিস্টারেই আসে, কিন্তু বিশ্বকাপ তো আর মুখের কথা না। গ্রেটেস্ট ইভেন্ট অন আর্থ! তার দেশ ‘চিলি’ শুনে ততক্ষণে আবার আমি মনে মনে ক্যালকুলেশন করে ফেলেছি- তার অফিসে গিয়ে ইভান জামোরানো আর মার্সেলো সালাস এর গল্প জুড়ে দিতে হবে। বুঝিয়ে দিতে হবে যে জা-সা জুটির বীরত্ব্ব সম্পর্কে বাঙালিরাও ওয়াকিবহাল। এখানে শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ রাখাটাকে খুব গুরুত্ব দেয়া হয়। গত সেমিস্টারে ভাল শিক্ষা হয়েছে। প্রফেসরের রুমে একবারও কোন সমস্যা নিয়ে যাইনি বলে সে বেশ ক্ষ্যাপা। বুঝে নিয়েছিল যে তার ঐ কোর্স নিয়ে আমার কোন আগ্রহ নেই!

যাই হোক, সকার নাকি ফুটবল এ নিয়ে বেশ সমস্যা হচ্ছে। আমি যদি বলি ফুটবল, তারা ধরে নেয় আমেরিকান ফুটবল (রাগবি) এর কথা বলছি। গল্প নিয়ে যায় ঐদিকে। আরেকজনের সাথে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের কথা বলছি, সে ভাবল ব্রাজিলিয়ান ফুড। আমাকে আশেপাশের রেস্টুরেন্টগুলোর ফিরিস্তি দিয়ে দিল যেখানে ব্রাজিলিয়ান খাবার পাওয়া যায়…

একটা দাওয়াত পেয়ে গিয়েছিলাম ‘সুপার বোল’ এর ফাইনাল দেখতে। আমেরিকার সবচেয়ে বড় ইভেন্ট। তাই মানুষজন বাসায় বাসায় জড়ো হয়েছিল। যারপরনাই বিরক্ত! তোরা রেসলিং খেললেই পারিস, এত যখন গায়ের জোর।

ইফতেখার আহমেদ ফাহমির ‘ফাউল’ নামক নাটকটি যারা এখনো দেখেন নি বিশ্বকাপের প্রাক্কালে দেখে ফেলতে পারেন। আমাদের দেশের মহল্লা বা পাড়াগুলোতে বিশ্বকাপের যে উম্মাদনা তার পুরোটাই উঠে এসেছে। নাটকে গৃহকর্তা তরকারীতে আগামী একমাস হলুদ দেয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, কারণ ‘হলুদ’ রঙ তার দুই চোখের বিষ। বাংলাদেশের কমন যে লুঙ্গি তার রং আর্জেন্টিনার পতাকার কাছাকাছি। তাই এই লুঙ্গি নিয়েও সে গর্বিত!

শেষ করি বন্ধুর কাছে শোনা মজার একটা ঘটনা দিয়ে। গত বিশ্বকাপের পর ফ্রান্সের জিনেদিন জিদান গ্রামীন ব্যাঙ্ক এবং ফ্রান্সের ড্যানোন কোম্পানীর আমন্ত্রণে বাংলাদেশে এসেছিল। গ্রামীন ব্যাঙ্কের কার্যক্রম দেখতে গিয়ে গ্রামের মহিলাদের সাথে কথা হচ্ছে। মাঝখানে দোভাষী। বেমক্কা এক মহিলা তাকে প্রশ্ন করে বসল, ‘মাথা দা ঢুসা দিসিলেন ক্যারে?’ বেচারা দোভাষী আর কী অনুবাদ করবে। অনেক ভেবে চিন্তে সে অনুবাদ করল- ‘বিশ্বকাপ ফাইনালে আপনার রহস্যময় আচরণের কারণ কি?’

Advertisements